তদন্ত রিপোর্ট ফাঁস: চণ্ডিকা হাতুরুসিংহেকে বরখাস্তের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন তামিম ইকবাল!

 


বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল ও প্রভাবশালী কোচ চণ্ডিকা হাতুরুসিংহের বিদায় ছিল অত্যন্ত অপেশাদার, বিতর্কিত এবং পরিকল্পিত। এই ঘটনার গোড়াপত্তন হয়েছিল দ্বিতীয় মেয়াদে তার কোচ হিসেবে ফিরে আসার পরই, যখন তিনি জাতীয় দলের কিছু সিনিয়র ক্রিকেটারের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে কঠোর অবস্থান নেন। তামিম ইকবালের সঙ্গে কোচের মনোমালিন্য শুরু হয় ফিটনেস ইস্যুতে—বিশেষ করে আফগানিস্তান সিরিজে বারবার ফারুকীর বলে আউট হওয়া তামিমকে মিডল অর্ডারে খেলতে বলার সিদ্ধান্তে। পরিণতিতে তামিম হঠাৎ করেই অবসরের ঘোষণা দেন, যদিও পরে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তিনি ফিরে আসেন—এবং বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে জাতীয় দলের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।


বিশ্বকাপ চলাকালীন একপর্যায়ে সংবাদ ছড়ায় যে, একটি ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে কোচ নাসুম আহমেদকে চড় মেরেছেন। তামিম ইকবালের ঘনিষ্ঠ সংবাদকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে একের পর এক রিপোর্ট করতে থাকেন। কিন্তু বিসিবির নিজস্ব তদন্তে দেখা যায়, এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রমাণ নেই—না কোনো ভিডিও ফুটেজে, না খেলোয়াড় বা টিম ম্যানেজমেন্টের বক্তব্যে। রিপোর্ট বলছে, এই প্রোপাগান্ডা মূলত সাজানো হয়েছিল হাতুরুসিংহেকে সরানোর কৌশল হিসেবে, যার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন তামিম ইকবাল এবং সহায়তাকারী হিসেবে ছিলেন বোর্ড পরিচালক জালাল ইউনুসসহ আরও কয়েকজন। তদন্ত রিপোর্টে আরও উল্লেখ আছে, কিভাবে সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে জনমত গঠন করা হয়েছিল এবং কোচের ভাবমূর্তি ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছিল।


এই অপেশাদার ঘটনাপ্রবাহ চূড়ান্ত রূপ পায় "জুলাই বিপ্লবের" পর, যখন বোর্ড সভাপতির বদল হয় এবং তামিমপন্থী পরিচালক ফারুক আহমেদ বিসিবি'র নেতৃত্বে আসেন। তখন পুরনো, ভিত্তিহীন ‘নাসুম ইস্যু’কে পুনরায় উত্থাপন করে হাতুরুসিংহেকে অপমানজনকভাবে বরখাস্ত করা হয়।


বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই ঘটনা একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে যে, ব্যক্তি ইগো ও প্রভাব-প্রতিপত্তি কিভাবে একটি সফল কোচিং স্টাফকে সরিয়ে দিতে পারে—যার খেসারত দিতে হয়েছে জাতীয় দলকেও। এখন প্রশ্ন, বিসিবি কি তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, নাকি রাজনৈতিক সুবিধার জন্য সব ধামাচাপা দিয়ে রাখবে?

Post a Comment

Previous Post Next Post